বিদেশে স্নাতক বা আন্ডারগ্রেট লেভেল এ স্কলারশিপ আবেদনের সহজ উপায়।

কি কি যোগ্যতা থাকলে বৃত্তি পাওয়া সহজ?

উচ্চমাধ্যমিক পেরিয়ে কিংবা স্নাতক শেষে অনেক শিক্ষার্থীই উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে যেতে চান। আর বৃত্তিসহ বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাওয়া শিক্ষার্থীরা শুধু মাত্র আর্থিকভাবেই নিরাপদ থাকেন না, ভিসা প্রাপ্তি ও অনেক সহজ হয়। আগে থেকেই প্রস্তুতি নিলে কিন্তু বৃত্তি পাওয়া সহজ হয়। কী কী যোগ্যতা থাকলে বৃত্তি পাওয়ার দিক থেকে আপনি এগিয়ে থাকবেন?

স্নাতক বা আন্ডারগ্রেট লেভেল এর জন্য:

আপনি যদি উচ্চমাধ্যমিক বা এ লেভেল এর পর বিদেশে কোনো বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজে পড়তে চান তাহলে উচ্চমাধ্যমিক বা এ লেভেল পড়ার সময় থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে। সে ক্ষেত্রে যেসব বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে।

এস এ টি (SAT) স্কোর

স্নাতক পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়াসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পড়তে গেলে এসএটি (SAT) স্কোরকে প্রাধান্য দেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয় ও দেশভেদে ভিন্ন স্কোর গ্রহণ করা হয়। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটের ‘অ্যাপ্লাই’ লিংক থেকে যোগ্যতার মাপকাঠি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে।

সামাজিক কার্যক্রম

ভর্তির আবেদনের বিভিন্ন পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের সামাজিক দক্ষতা ও নেতৃত্ব বিকাশের বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ জন্য দেশে স্কুল ও কলেজে পড়ার সময়ে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনে যুক্ত হওয়া যায়। গণিত অলিম্পিয়াড, পদার্থবিজ্ঞান অলিম্পিয়াডসহ বিভিন্ন মেধাবৃত্তিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা ভর্তি কার্যক্রমে দারুণ সহায়তা করে। স্কাউটিং, সামাজিক বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজের সনদও এসব ক্ষেত্রে আপনাকে এগিয়ে রাখবে।

সুপারিশপত্র

বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদনের ক্ষেত্রে সুপারিশপত্র (রিকমেন্ডেশন লেটার) জমা দিতে হয়। আলোচিত কোনো ব্যক্তিত্ব, স্কুল বা কলেজের শিক্ষক, প্রভাবশালী কোনো ব্যক্তিত্ব যিনি শিক্ষার্থীকে চেনেন, তাঁর কাছ থেকে সুপারিশপত্র নিয়ে জমা দিতে হয়। যিনি সুপারিশপত্র লিখবেন তিনি শিক্ষার্থীদের মেধাবৃত্তিক দক্ষতার পাশাপাশি জ্ঞান অন্বেষণের আগ্রহসহ সামাজিক দক্ষতা ও নেতৃত্বের প্রকৃতি সম্পর্কে উল্লেখ করবেন। অনেক সময় বিশ্ববিদ্যালয়, সুপারিশকারীর কাছে ইমেইল এ আবেদনকারী সম্পর্কে জানতে চায়।

ভাষা দক্ষতার প্রমাণ

সাধারণভাবে যেকোনো দেশেই ইংরেজি ভাষার কোনো বিষয়ে পড়তে গেলে আইইএলটিএস ও টোফেল স্কোরকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীর ভাষাভিত্তিক দক্ষতা প্রমাণের জন্য নিদৃষ্ট স্কোর সনদ জমা দিতে হয়। সাধারনত আন্ডারগ্রেট লেভেল এ আইইএলটিএস স্কোর ৬ ও টোফেল স্কোর

এছাড়া কিছু নিদৃষ্ট বিষয়ের জন্য, যেমন মেডিসিন (এম বি বি এস অথবা বি ডি এস) এসব বিষয়ের জন্য আইইএলটিএস স্কোর ৭ প্রয়োজন।

ভবিষ্যতের লক্ষ্য

কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে শিক্ষার্থীর কাছ থেকে কেন পড়াশোনা করতে চায়, পড়াশোনার মূল লক্ষ্য কী, ভবিষ্যতে কোন বিষয়ে কাজ করতে চায়—এসব নানা বিষয়ে জানার জন্য আবেদনের সঙ্গে আগ্রহের কথা লিখতে হয়। অন্য কারও আবেদনপত্র থেকে হুবহু অনুকরণ করে অনেকেই নিজের কথা লিখে জমা দেয়, যেটি কোনোভাবেই করা যাবে না। এ ক্ষেত্রে নিজের আগ্রহের কথা বুঝে ব্যাখ্যা করে লিখতে হবে, অনুকরণ করা যাবে না।

বিদেশে ভর্তি আবেদনের বিস্তারিত জানতে ও ফ্রী গাইড ডাউনলোড করতে ভিজিট করুন ।

আবেদনের ফি

যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য আবেদন ফি জমা দিতে হয়। যেকোনো ব্যাংকের আন্তর্জাতিক ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে ফি জমা দেওয়া যায়।


নম্বরপত্র জমা

ইউরোপ-আমেরিকার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার ক্ষেত্রে নম্বরপত্রের কপি (ট্রান্সক্রিপ্ট) জমা দিতে হয়, যা অবশ্যই ইংরেজি ভাষায় লেখা হতে হবে কিংবা ইংরেজিতে ভাষান্তর করে জমা দিতে হবে। কুরিয়ার করে পাঠাতে হতে পারে, তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ই–মেইলে বা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আবেদনপত্র জমা দিতে হয়। অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে নম্বরপত্র তৃতীয় কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে যাচাই করিয়ে নিতে হয়। সাধারণত বাংলাদেশি শিক্ষা বোর্ডের সার্টিফিকেট ও মার্কসসীট বোর্ড থেকে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদ ও নম্বরপত্র সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সত্যায়িত করে, পরে শিক্ষা ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সত্যায়িত করে নিতে হয়।

কখন আবেদন করবেন

বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন সেশনে আবেদন করা যায়। এ ক্ষেত্রে ‘ফল সেমিস্টার’ (আগস্ট থেকে), ‘স্প্রিং সেমিস্টার’ (জানুয়ারি থেকে) ও ‘সামার সেমিস্টার’ (মে থেকে) বিভিন্ন ভাগে আবেদন করা যায়। প্রধানত আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ফল সেমিস্টারে আবেদন করতে হয়। যে সেশনেই আবেদন করেন, মনে রাখবেন অন্তত একবছর থেকে আট মাস আগেই আবেদন সমপন্ন হয়ে থাকে।

যে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে চান তার ওয়েবসাইট, ফেসবুক বা ইউটিউব থেকে নানা তথ্য জানা যায়। এই ওয়েবসাইটে নজর রাখুন অথবা আমাদের ফেসবুক পেজ এ যুক্ত থাকুন।