বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য কিভাবে ইউনিভার্সিটি বাছাই করতে হয়?

কিভাবে ইউনিভার্সিটি বাছাই করতে হয়?

আপনি বিদেশে উচ্চতর শিক্ষা নিতে যাবেন কিনা আর গেলেও কোন বিষয়ে পড়তে যাবেন সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবার পর আসে ইউনিভার্সিটি বাছাইয়ের ব্যাপারটি।

কোন ইউনিভার্সিটি বেছে নেবেন?
কেন বেছে নেবেন?
এ ব্যাপারে কখন কিভাবে আগাবেন?

ব্যাপারগুলো খুব কনফিউজিং বলে মনে হতে পারে।  কিন্তু একটু পরিচিত হয়ে গেলে সেটা সহজ হয়ে আসবে আপনার জন্য।

কোন ইউনিভার্সিটি সেরা এটা একটা খুব সাধারন জিজ্ঞাসা।  আর এই জিজ্ঞাসাকে সামনে রেখে ইউএসনিউজ প্রতিবছর একটা র‌্যাঙ্ক লিস্ট প্রকাশ করে।  এই র‌্যাঙ্ক লিস্টকে মোটামুটি সবাই বেশ ভাল বলেই মেনে নেয়।  এই র‌্যাঙ্কিং করার সময় ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষকের কোয়ালিটি, তাদের মোট প্রকাশ করা পেপার, সেই পেপারগুলোর মান, ইউনিভার্সিটিতে ছাত্রদের দেয়া আর্থিক সাহায্য এই সবকিছুকে বিবেচনা করা হয়।  অনেক ক্ষেত্রে ইউনিভার্সিটিতে পার্কিং সুবিধার মত অদরকারী বিষয়গুলোও বিবেচনা করা হয়, সেজন্য অনেকে এই র‌্যাকিং প্রথার বিরুদ্ধে মতামত দিয়ে থাকেন।  এই র‌্যাংক লিস্টটা দেখতে হলে পয়সা দিতে হয়।  তাই কেবল উপরের দিকের কয়েকটা ইউনিভার্সিটির নাম দেখা ছাড়া আর কিছুই করা যায় না এ দিয়ে।

এছাড়া ইউনিভার্সিটিগুলোর র‌্যাঙ্কিং করার জন্য পিএইচডিস অর্গ ওয়েবসাইটাও দেখতে পারেন।  সেখানে আপনার পছন্দের সিলেকশন ক্রাইটেরিয়া বাছাই করে ইউনিভার্সিটি র্যাঙ্ক করতে পারেন।  জিনিসটা খুব কাজের।

Slider

সুতরাং প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে আপনি ইউনিভার্সিটি গুলোর ধরন ধারন, আপনার বিষয়ের কোয়ালিটি এইসব জেনে নিলেন।  এরপর আপনার নিজের কোয়ালিটির সম্পর্কে একটু নজর দিতে হবে।  যদি আপনি মাঝারি মানের ছাত্র হন তাহলে মাঝারী ধরনের ইউনিভার্সিটির দিকে নজর দেয়া ভাল।  আর সেই সাথে একটু ভাল ধরনের, আর একটু নীচু র‌্যাঙ্কিংয়ের ইউনিভার্সিটির দিকে নজর দেয়া উচিত।  এভাবে র‌্যাঙ্ক লিস্ট থেকে ১০-২০টা ইউনিভার্সিটিকে টার্গেট করে ফেলুন।  এরপর টার্গেট করা ইউনিভার্সিটি গুলোর ওয়েবসাইট ঘেঁটে দেখুন আপনি যে বিষয়ে পড়তে চাচ্ছেন সে সব বিষয়ে সেই ইউনিভার্সিটিতে কোন প্রফেসর কাজ করেন কিনা।  করলে কি ধরনের কাজ করে থাকেন। প্রফেসর বা সেখানে কাজ করছে এরকম কোন ছাত্রকে সরাসরি ইমেইল করে আলাপ করুন কাজের ধরন সম্পর্কে।  দেখুন সেটা আপনার মনপুত: হচ্ছে কিনা।  যেসব ইউনিভার্সিটির কাজ আপনার মন:পুত হচ্ছে না সেগুলোকে বাদ দিয়ে দিন আপনার লিস্ট থেকে।

আরও দেখুন যে প্রফেসরকে পছন্দ হয়েছে তার সাথে কতজন কাজ করে।  সেমস্ত ছাত্রের কোয়ালিটি কেমন।  সেই প্রফেসরের কোয়ালিটিই বা কেমন।  লোকটা মানুষ হিসেবে কেমন।  তার সাথের ছাত্ররা কেমন আর্থিক সাহায্য পায় এইসবও দেখুন।

প্রতিটা ইউনিভার্সিটির পড়ালেখার খরচ কত সেটাও দেখুন।  প্রতিটা ইউনিভার্সিটির ওয়েব পেইজে সার্চ করার অপশন থাকে সেটা ব্যবহার করুন।  এ পর্যায়ে সে সমস্ত তথ্য আপনার টুকে রাখা দরকার সেগুলো হল:

১।  বিশ্ববিদ্যালয়-টির নাম আপনি আগে কারো কাছ থেকে শুনেছেন কিনা। শুনে থাকলে কি শুনেছেন?
২।  ইউনিভার্সিটি যেখানে অবস্থিত সেখানকার জীবন যাত্রার মান কেমন?
৩।  ইউনিভার্সিটি যেখানে অবস্থিত সেখানকার আবহাওয়া কেমন?
৪।  ইউনিভার্সিটির খরচাপাতি (এপ্লিকেশন ফি ও টিউশন ফি) কেমন?
৫।  আপনার আগ্রহের প্রোগ্রামে কি কি ফেসিলিটি আছে তা দেখুন।
৬।  ভর্তির জন্য কি চায়?
ডেডলাইন কবে?
IELTS, টোফেল বা জিআরই কত চায়?
৭।  আপনি যে বিষয়ে আগ্রহী সেই বিষয়-এ ঐ বিশ্ববিদ্যালয়-এর আলাদা সাইট আছে- সেখানে যান। কি কি রিসার্চ করে তা দেখুন। আপনার পছন্দের বিষয়ে কোন কোন প্রফেসের কাজ করছে, তাদের প্রোফাইল দেখুন।
৮।  ঐ বিষয়ে তাদের কোন সাম্প্রতিক সাফল্য দাবি করার মত কিছু আছে কিনা দেখুন। থাকলে তা যাচাই করুন।
৯।  বিশ্ববিদ্যালয়-টি স্কলারশিপ প্রদানে কতটা উদার খবর নিন।
১০।  পোস্ট গ্রাড লেভেল-এ হলে ডিপার্টমেন্ট-এর উপরের দিকে কারো (চেয়ার, ডিন, এসোসিয়েট ডিন অথবা আপনার গবেষণার বিষয়ের সাথে মিলে এমন কোন অধ্যাপক-এর সাথে যোগাযোগ করুন এপ্লাই করার আগে।
১১।  বিশ্ববিদ্যালয়-টি যেই শহর-এ অবস্থিত তা সম্পর্কে জানুন। সেখানে কি কি ইন্ডাস্ট্রি আছে- সেসব জায়গায় আপনার বিষয়ের চাহিদা কিরকম। দিন শেষে লোকাল-দের প্রাধান্য সবাই দেয়।
১২।  থাকার সুবিধা এবং অন্যান্য সুযোগ সুবিধা সম্পর্কে খবর নিন। এসব খবর সাধারণত বিশ্ববিদ্যালয়-এর আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী-দের অফিস-এ পাওয়া যায়।  (আই এস ও নামে সাধারণত পরিচিত) ও পোস্ট গ্রাড লেভেল-এ কোথাও কোথাও আপনাকে বলবে আসার পরে একটা পরীক্ষা দিতে- কোন মডিউলে পাস না করলে কিছু আন্ডার গ্রাড কোর্স নিতে বলবে।

এই সমস্ত তথ্য যোগাড় হয়ে গেলে পরে আপনার ইউনিভার্সিটি গুলো সম্পর্কে মোটামুটি একটা ধারনা চলে আসবে।  কোনটাতে এপ্লাই করা যায় কোনটাতে যায় না তখন সে ব্যাপারে আপনি সিদ্ধান্তে আসতে পারবেন।  ইউনিভার্সিটির ওয়েবপেইজে বাংলাদেশ সার্চ করে দুই একটা বাঙ্গালী যোগাড় করে নিন।  তাদের যোগাযোগ করে জেনে নিন অন্যান্য তথ্য।

এ পর্যায়ে আপনার লিস্টটা ধরে ইউনিভার্সিটিগুলোতে এপ্লাই করার প্রস্তুতি নিতে পারেন।  মনে রাখা ভালো, যেহেতু বিদেশে প্রচুর প্রতিযোগিতা, তাই নিজের যোগ্যতা অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় বাছাই করতে হবে।

Slider