আন্ডার গ্র্যাজুয়েট (ব্যাচেলর ডিগ্রী) লেভেল – এ ভর্তির জন্য ইউনিভার্সিটি আপনার কাছে কি চায়?

র্তির জন্য ইউনিভার্সিটি আপনার কাছে কি চায়?

পুরো রচনা জুড়ে একটা জিনিস মাথায় রাখতে হবে যে এখানে সাধারণত আর অধিকাংশ নিয়ে আলোচনা করে যাবো।  কারণ বিদেশে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রত্যেকটিতে নিয়ম কানুন আলাদা হওয়ায় প্রত্যেকটিতে আলাদা আলাদা কিছু নিয়ম থাকে।  সেগুলোর পরেও সবগুলোতে সহজ ভাষায় একটা সামঞ্জস্য আছে।  সেই সামঞ্জস্যের অংশটুকুন নিয়ে লেখা হচ্ছে।  তারপরেও যে বিশ্ববিদ্যালয়ে এপ্লাই করতে চাচ্ছেন-তাদের স্পেশাল কোন নিয়মকানুন আছে কিনা সেটা তাদের ওয়েবসাইট থেকে দেখে নিতে অনুরোধ করবো।

বিদেশে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রক্রিয়া নিয়ে কথা বলতে গেলেই কিছু ব্যাপার জানতে হবে।  বিদেশে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রক্রিয়া আমাদের ভর্তি প্রক্রিয়ার চেয়ে অনেক অনেক অনেক আলাদা।

প্রথমতঃ আসলে আমাদের দেশে যেমন একটা নির্দিষ্ট পরীক্ষায় ভালো করে সাথে সাথে একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে যাওয়া যায়- বিদেশে পদ্ধতিটা ঠিক এমন নয়।  ভর্তির জন্য কিছু পরীক্ষা দেয়া লাগে বটে-তবে সেই পরীক্ষাগুলো ভর্তির অনেক অনেকগুলো অনুষঙ্গের মধ্যে একটা অনুষঙ্গ মাত্র-আর কিছুই নয়। পরীক্ষার রেজাল্ট যতটা গুরুত্বপূর্ণ-এক্সট্রা কারিকুলার এক্টিভিটি, এডমিশন এসে, লেটার অব রেকমেন্ডেশন ইত্যাদি সমভাবে গুরুত্বপূর্ণ।  আমি এমন অনেককেই চিনি যারা পরীক্ষায় মোটামুটি একটা স্কোর নিয়েও বাকি অনুষঙ্গগুলোর জোরে অনেক ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছে।

আসলে একেক বিশ্ববিদ্যালয় একে জিনিস দেখলেও মোটামুটি একটা কমন লাইনআপ দেয়া যেতে পারে।  সেইটার একটা লিস্টঃ
১) এপ্লিকেশনের এসে
২) SAT বা SAT Subject Test
৩) IELTS বা TOEFL
৪) একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট
৫) এক্সট্রা কারিকুলার এক্টিভিটিস
৬) লেটার অব রেকমেন্ডেশন

ডমিশন এসে বা রচনা

এপ্লিকেশনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো এপ্লিকেশনের এসে বা রচনা।  এই বিষয়টা একটু বুঝিয়ে বলার জন্য ব্যাখ্যা হিসাবে লিখছি-

অনেকের মতে এডমিশন এসে বা রচনাটাই ভর্তি প্রক্রিয়ার সবচেয়ে ভাইটাল অংশগুলোর মাঝে একটা।  এই এসে দিয়ে একজন এডমিশন অফিসার শিক্ষার্থীকে চিনতে পারবে-জানতে পারবে।  এসের টপিক থাকে এবং সেই টপিকে মোটামুটি ঘুরিয়ে ফিরিয়ে তোমার এবং তোমার প্যাশনের সম্বন্ধে জানতে চাওয়া হয়।  এই এসেটা একটু ধীরেসুস্থে-বুঝে শুনে লিখতে হবে।  এই এসেটা এমন ভাবে লিখতে হবে যাতে সবার থেকে আলাদা করে তোমার লেখাটা ফুটে ওঠে।  এসে লেখার তেমন কোন নিয়মকানুন নেই তবে একটা ইনফরমাল আপন-আপন আবহাওয়া আছে যেটা আমাদের অতিফরমাল এসএসসির ‘ক্লাইমেট চেইঞ্জ’ মার্কা রচনার অনেকটাই বিপরীত।  কাজেই এই ভাবধারাটা বোঝার জন্য কিছু স্যাম্পল এসে পড়া যেতে পারে।  গুগলে সার্চ দিলেই অনেক স্যাম্পল এডমিশন এসে পাওয়া যাবে।

SAT বা SAT Subject Test

এডমিশনের এই অংশটাকে নিয়ে অনেকে অনেক স্বাচ্ছন্দ বোধ করতে পারেন কারণ এই পরীক্ষাত ব্যাপারটি আমাদের মোটামুটি পরিচিত।  আর এই পরীক্ষাটি একক নির্ধারণী বিষয় না হলেও বেশ গুরুত্বপূর্ণ।  তাই এই বিষয়ে জানাও দরকার।

এটা একটা বেসিক পরীক্ষা।  আপনি যুক্তরাষ্ট্র আর কানাডায় যে বিষয়েই পড়তে চান না কেন-আপনাকে এই পরীক্ষাটি দিতে হবে।  পরীক্ষাটি ২৪০০ মার্কে হয়-চার ঘন্টার পরীক্ষা।  পরীক্ষা নেয়া হয় তিনটি অংশে-ম্যাথ,ক্রিটিকাল রিডিং আর রাইটিং।  তিনটাতে আটশ করে মোট চব্বিশ শো।  ম্যাথ অংশটা বেশ সোজা।  মোটামুটি মাথা ঠান্ডা রাখলে ক্লাস টেনের একটা ছেলেরও ম্যাথগুলো ভুল করার কোন কারণ নেই।  তবে সমস্যাটা হলো-কম সময়ে অনেক বেশি অংক করতে হয়। কাজেই এই সময়ের মধ্যে মাথা ঠান্ডা রেখে ঠিকঠাক অংক করতে পারাটা একটা প্রাকটিসের ব্যাপার।

রাইটিং অংশ মূলত গ্রামারভিত্তিক।  এরর আইডেন্টিফিকেশন-রিরাইটিং এর মতন বিষয়গুলো থাকে।  তবে এই গ্রামারটুকুন আমাদের চিরপরিচিত ব্রিটিশ গ্রামার থেকে একটু ভিন্ন ধাঁচের।  একটু বেশি কনভারসেশনাল।  তবে মোটামুটি একটু পড়াশোনা আর কারো সামান্য গাইডেন্স পেলে ব্যাপারটা বেশি একটা কঠিন নয়।  সাথে অবশ্য একটা এসেও লিখতে হয়।  কেউ যদি এডমিশন এসে নিয়ে একটু ঘাটাঘাটি করে তাহলে এই এসেতেও খুব একটা সমস্যা হবেনা-তবু বইয়ের কিছু মডেল দেখা যেতে পারে।

রিডিং অংশটা একটু ক্রিটিকাল বলেই নাম ক্রিটিক্যাল রিডিং। আনসিন পেসেজ থাকে-সেগুলোর থকে প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়।  এইখানে কিছু টিপস-ট্রিকসের ব্যাপার আছে। বই আর কারো সাহায্য নিলে সহজেই পারা যেতে পারে। সাথে যে ঝামেলার জিনিসটা আছে সেটা হল সেনটেন্স কমপ্লিশন।  এইখানে প্রচুর ভোকাবুলারির জ্ঞান লাগে আর বেশ কিছু শব্দ মুখস্ত করতে হয়।  তাই বলে ডিকশনারি নিয়ে বসে যেতে হবে এমন নয়।  শব্দ শেখারও কিছু কায়দা আছে।

এইসব কায়দা-নিয়মকানুন-টিপস ট্রিকস খুব সুন্দর করে লেখা আছে Princeton Review এর Cracking the SAT বইটাতে।  এছাড়া Barrons এর SAT বইটাও বেশ ভালো।  তবে প্রাকটিস টেস্টের জন্য Collegeboard এর নীল রঙের SAT বইটি ব্যবহার করা নিরাপদ।

SAT Subject Test হলো মূলত নির্দিষ্ট সাবজেক্টের উপর একেকটা পরীক্ষা।  এই পরীক্ষাটি না দিলেও চলে তবে বিশেষত বিজ্ঞানের বিষয়গুলোতে পড়তে চায় এমন মানুষদের এই পরীক্ষাটি দেয়া উচিত।  অনেক বিশ্ববিদ্যালয় নির্দিষ্ট কোর্সের জন্য আবার এটাকে অনিবার্য বলেও ঘোষণা দেয়। Mathematics,Physics,Chemistry,Biology বিভিন্ন বিষয়ে Subject Test দেয়া যায়।  কে কোন কোন সাবজেক্ট টেস্ট দেবে এটা তার সাবজেক্ট চয়েসের ওপর নির্ভর করে।  আমার এক বন্ধু গণিতে অনার্স করতে চায়-সে Mathematics আর Physics এর Subject Test দিয়েছে।  এই সাবজেক্ট টেস্টগুলোর রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়াও এমনি SAT এর মতন।


IELTS বা TOEFL Score

IELTS একটা অপরিহার্য পরীক্ষা। অনেকে আবার IELTS এর বদলে TOEFL ও দেয়-কিন্তু IELTS সহজতর আর অনেক দেশের জন্য প্রযোজ্য।  মূলত এই পরীক্ষার ফলাফলের উপর রেজাল্ট নির্ভর করেনা।  এটা একটা ইংরেজিতে কমিউনিকেট করতে পারার প্রমাণ।  অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয় IELTS এর জন্য একটা পাসিং মার্জিন দেয় (সাধারণত ৬) তার বেশি পেলেই তারা ইংরেজিতে পারদর্শী ধরে নেয়।  যেমন অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয় TOEFL এ ১২০ নম্বরের পরীক্ষায় নূন্যতম ৭৯ পেতে হয়।  তবে ১০০-এর বেশি নম্বর পেলে ভালো।

কাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট

একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট হিসেবে এসএসসির ও এইস এস সির সনদ ও রেজাল্ট জমা দিতে হয়।  কিন্তু প্রথম সারির ছাত্ররা স্কলারশীপের ক্ষেত্রে কিছু অগ্রাধিকার পায়।  এই ট্রান্সক্রিপ্টগুলো একাডেমিক কাউন্সিলরের মারফত পাঠাতে হবে।  নিজের মতন করে কাউন্সিলরকেও একটা কমন এপ একাউন্ট খুলে দিতে হবে আর সেইখানে এই ডকুমেন্টগুলো পিডিএফ আকারে আপলোড দিতে হবে।

ক্সট্রা কারিকুলার এক্টিভিটি

এক্সট্রা কারিকুলার এক্টিভিটি ওদের কাছে বড় একটা বিবেচনার বিষয়।  এই জিনিসটা এডমিশনের কাজে অনেক সাহায্য করে।  মূলত কারো যদি কোন চ্যারিটি-সোশ্যাল ওয়ার্ক বা আন্তর্জাতিক সনদ থাকে, তাহলে সেটাকে ওরা বিশেষ মূল্যায়ন করে।  তবে কারো যদি মনে হয় তার এরপর কোন এচিভমেন্ট নেই-তাহলে খুব ভয় পাবার কিছু নেই কারণ অনেকেই আছে যাদের এমন কোন রেকর্ড নেই কিন্তু অন্য অনুষঙ্গগুলো এতটাই পাকপোক্ত যে অনেক ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছে ।

লেটার অব রেকমেন্ডেশন

এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা ব্যাপার।  মূলত দুইজন টিচারের কাছ থেকে সুপারিশ পত্র নিয়ে সেটা সাবমিট করতে হয়।  তবে কোনভাবেই এই চিঠিগুলো যাতে ম্যাড়মেড়ে চারিত্রিক সনদের মতন না হয়।  পত্রটা পড়ে মনে হতে হবে যে পত্রকার শিক্ষার্থীকে ব্যক্তিগতভাবে চেনে এবং ব্যক্তিগতভাবে তার গুণাবলি তুলে ধরে তাকে সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের একটা যোগ্য চয়েস হিসেবে ব্যাখ্যা করবে।  এই পত্রটা খুব গুরুত্বপূর্ণ বলে সবচেয়ে ভালো হয় যদি শিক্ষক আর ছাত্র মিলেঝুলে ঠিক করে যে কি কি লেখা যায়।

Slider